ডালে বসে ডাল কাটার গল্প

সুজন মেহেদী

একটি টেলিভিশনের মার্কেটিং বিভাগের কয়েকজন কর্মী চাকরি ছেড়ে দিয়ে এড এজেন্সি বানালেন। এরপর তারা বিজ্ঞাপন জোগাড় করতে, পরিচিত কোম্পানিগুলোর কাছে গেলেন। বিজ্ঞাপনের অর্ডার নিয়ে সেই চ্যানেলেই আবার কম দামে বিজ্ঞাপন বিক্রি করলেন। কোম্পানি’রও লাভ হলো সে আগের চেয়ে কম দামে বিজ্ঞাপন দিতে পারলো।

ধরা যাক ‘লাল” কোম্পানি “সাদা” টেলিভিশনকে মিনিটে ১০ হাজার টাকা হারে বিজ্ঞাপন দিতো। এজেন্সি বললো আপনি ৮ হাজার দিলেই আমরা ব্যবস্থা করছি। এজেন্সি টেলিভিশনকে বললো ৬ হাজারে পারলে বিজ্ঞাপন পাবেন। এভাবে মিনিটে ‘সাদা” টেলিভিশনের আয় ৪ হাজার টাকা কমে গেল।

অধ্যায়-২

টেলিভিশনের মার্কেটিং বিভাগের লোকরা দেখলেন তাদের চেয়ে এজেন্সি’র লোকের মূল্যায়ন বেশি। এবার তিন/চার টেলিভিশনের’র লোক একসাথে মিলে এজেন্সি দিল। ফলে তারা তিন-চারটি টেলিভিশনে সহজ প্রবেশাধিকার পেল। সবগুলো টিভির আয় কমতে থাকলো।

অধ্যায়-৩

মার্কেটিং-এর যারা চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলো এক দুই বছরের মধ্যে তারা নিজেদের গাড়ি কিনে ফেললো। এই জিনিসটা এবার সাংবাদিকদের সংক্রমিত করলো। কয়েকটি টেলিভিশনের সাংবাদিক একত্রিত হয়ে এজেন্সি খুলে ফেললো। সাংবাদিকরা চাকরি ছাড়লো না। তারা সাংবাদিকতার টুকটুক ক্ষমতা ধরে রেখে কোম্পানির কাছে গেল। কোম্পানিগুলো ভাবলো এমন এজেন্সি দরকার যারা কম দামে বিজ্ঞাপনের জায়গা দেবে আবার সময়মতো তাদেরকে ব্যবহারও করা হবে। বিজ্ঞাপন স্টাইলের নিউজও প্রচারিত হবে। সাংবাদিকদের এই এজেন্সিও বড় পরিমান বিজ্ঞাপন পেল ও টেলিভিশনের কাছে বিক্রি করতে থাকলো।

তারাও এক-দু’বছরে গাড়ি ফ্লাটের মালিক হলো।

অধ্যায়-৪

দিনের পর দিন টিভি চ্যানেল বাড়তে থাকলো। বিজ্ঞাপনের বাজেট বাড়লো না। চ্যানেল গুলোর মধ্যে বাজেট ভাগ হতে থাকলো। চ্যানেলের আয় কমতে থাকলো। সময়মতো বেতন না দিতে পারার প্রতিযোগিতা শুরু হলো।

অধ্যায়-৫

এরপর করোনা এলো। ব্যবসা বাণিজ্যে ধ্বস নামলো। এজেন্সির বিজ্ঞাপন পাওয়া বন্ধ হয়ে গেল। টিভি ও এজেন্সি’র একসাথে ধস নামা শুরু হলো। এখন সবার অবস্থা নিভু নিভু।

যে ডালে বাসা, সেই ডালটাই কেটে ফেললে যা হয়, আর কি!

লেখক : সুজন মেহেদী