স্ট্যান্টবাজির সাংবাদিকতা এবং ‘ডেক্সামেথাসোন’

অধ্যাপক মুনীরউদ্দিন আহমেদ

আমার এই লেখাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মনযোগ দিয়ে পড়বেন। ডেক্সামিথাসন কোনো সাধারণ ওষুধ নয়। ডেক্সামিথাসন প্রেসক্রিপশন ড্রাগ। প্রেসক্রিপশন ড্রাগের মধ্যেও এটি একটি স্পেশাল ড্রাগ। জীবন রক্ষাকারী ওষুধ বলে রোগীর সংকটাপন্ন অবস্থায় জীবন বাঁচানোর জন্য শুধু এই ওষুধটি প্রয়োগ করা হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও রোগীকে এই ওষুধটি প্রয়োগ করার পূর্বে দশবার ভাবেন।

ডেক্সামিথাসন নিয়ে অ্যাডভেঞ্চারিজমের একদম কোনো সুযোগ নেই। অনুগ্রহ করে ডেক্সামিথাসনের অপব্যাবহার করবেন না। ডেক্সামিথাসনের আত্মচিকিৎসা কঠোরভাবে বর্জনীয়। হরমোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ওষুধ গ্রহণ করেছেন তো মরেছেন।

করোনা চিকিৎসার কোন স্টেজে রোগীর ওপর এই ওষুধটি প্রয়োগ করা যাবে, তা শুধু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা নির্ধারণ করবেন। ঘরে চিকিৎসা নেয়া প্রাথমিক পর্যায়ের করোনা রোগীরা কোনোভাবেই ওষুধটি গ্রহণ করবেন না। প্রাথমিক পর্যায়ের রোগীরা ডেক্সামিথাসন গ্রহণ করলে অবস্থার আরও অবনতি ঘটবে। অক্সিজেন নেয়া বা ভেন্টিলেটরে থাকা রোগীদের শুধু ডেক্সামিথাসন দেয়া যেতে পারে।

ডেক্সামিথাসনের মতো ওষুধ নিয়ে মিডিয়াতে বলতে বা লিখতে গেলে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। আমাদের দেশে সব সাংবাদিকের সাংবাদিকতার মান প্রশংসনীয় নয়। ওষুধ ও রোগ সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান না থাকলেে এসব সেনসেটিভ বিষয় নিয়ে রিপোর্টিং না করার জন্য আমি সাংবাদিকদের আহ্বান জানাব। একান্তই যদি রিপোর্টিং করতে হয়, তাহলে এ বিষয়ে অভিজ্ঞ কারো সাহায্য নিন। অনেক মিডিয়া ওষুধ নিয়ে গত কয়েক মাসে যে স্টান্টবাজি করেছেন এবং এখনো করছেন, তা সাধারণ মানুষ ও চিকিৎসকদের জন্য বিভ্রান্তি ও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

উন্নত দেশের মিডিয়াগুলো ভয়ংকর ওষুধ নিয়েও যদি দিনরাত প্রচারণা চালায়, তাতে আমরা আতংকিত হই না। কারণ ওসব দেশে ওটিসি ড্রাগ ছাড়া কোনো প্রেসক্রিপশন ড্রাগই লাইসেন্সপ্রাপ্ত চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া হাজার চেষ্টা করেও কিনতে পারবে না। কিন্তু আমাদের দেশে কোনো ওষুধ কিনতেই প্রেসক্রিপশন লাগে না।

কিছুদিন আগে আল-জাজিরা ও বিবিসি’র রিপোর্টে দেখলাম- কীভাবে বাংলাদেশের পতিতালয়গুলোতে ছোট ছোট শীর্ণকায় মেয়েরা মোটাগাটা, লাবন্যময়ী ও নাদুসনুদুস হয়ে খদ্দের আকর্ষণ করার জন্য প্রতিদিন ডেক্সামিথাসন কিনে খাচ্ছে এবং পরবর্তীকালে ক্যান্সার ও কিডনি বিকল হয়ে মারা যাচ্ছে। আরও বলি- পোল্ট্রি ও গরু মোটাতাজা করার জন্যও ঢালাওভাবে ডেক্সামিথাসন ব্যবহার করা হয়। এরপরও ডেক্সামিথাসনের আত্মচিকিৎসা নিয়ে অ্যাডভেঞ্চারিজমে যাবেন?

লেখক: ড. মুনীরউদ্দিন আহমদ, অধ্যাপক, ফার্মেসি অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়