ইতালিতে করোনাকালে সাংবাদিকতা

সাইফুল ইসলাম মুন্সী

অনিয়মিত অভিবাসীদের নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল ইতালিতে সবসময়ই অভিবাসীদের নিয়ে কোন না কোন ইস্যু চলমান থাকে। দেশটিতে হঠাৎ করেই বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর উদাসীনতায় ক্ষমতার আসনে শক্ত জায়গা করে নিয়েছে ডানপন্থী দলগুলো। তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ কট্টোর ডানপন্থী নেতা মাত্ত্বেও সালভিনির জনপ্রিয়তা।

সবকিছুই যখন সঠিক নিয়মে চলছিলো ঠিক তখনই হঠাৎ করে করোনার ভয়াল থাবায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে ইউরোপের অর্থনৈতিক শক্তিশালী দেশ ইতালি। দেশটির সকল শ্রেণীর গণমাধ্যমকর্মীদের ব্যস্ততার কারণ হয়ে দাঁড়ায় এ করোনাভাইরাস। ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দেশটির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গন্য হয় এ কোভিড-১৯। শুধুমাত্র করোনায় আক্রান্তদের খবর জানাতেই সীমাবদ্ধ ছিলনা এসকল গনমাধম্যকর্মীরা। করোনার পরবর্তী সময়ে দেশকে কিভাবে গতিশীল করা যায় সেসব বিষয় নিয়ে গবেষণাকারীদের ধারণা ও এ ভাইরাস ঠেকাতে রাজনৈতিক নেতাদের মতামত এবং জনগণদের সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক বার্তা প্রদানেও ব্যাপক ভূমিকা পালন করে স্থানীয় সাংবাদিকেরা।

বিশ্বের সকল দেশের গণমাধ্যম কর্মীদের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংস্থা ‘রিপোর্টারস উইথ আউট বর্ডারস’র তথ্যমতে গণমাধ্যম কর্মীদের স্বাধীনতার দিক থেকে ইতালির অবস্থান ৪১ নাম্বারে। দেশটিতে মাফিয়াদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেক গণমাধ্যম কর্মীরাই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনা। তবে দেশটির পুলিশ সবসময়ই সংবাদকর্মীদের পাশে ছিল।

সংস্থাটির তথ্যমতে ইতালিতে প্রায় বিশ জনের বেশি সাংবাদিক মাফিয়াদের মৃত্যুর হুমকি পেয়ে নিজ বাসায় পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এরমধ্যে বেশীরভাগই রাজধানী রোমে ও বাকিরা দক্ষিণ ইতালি ও দ্বীপাঞ্চল সারদিনিয়াতে রয়েছে।

ইতালির বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার তথ্যানুযায়ী দেশটিতে বর্তমানে ছাপা হওয়ার তালিকায় দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ১২৭ টি। এরমধ্যে সবচেয়ে পুরাতন ১৮৫৯ সাল থেকে প্রকাশিত ‘লা নাতসিওনে’ পত্রিকা। আর আঞ্চলিক পত্রিকার সংখ্যা ৩৪ টি। এছাড়াও রেডিওর সংখ্যা ২২৭ টি আর টেলিভিশনের সংখ্যা ১৩২ টি। আর সর্বমোট সাংবাদিকের সঠিক হিসাব না থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে সবমিলিয়ে যার সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার।

দেশজুড়ে করোনা মোকাবেলায় স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের ব্যাপক প্রশংসা করেছেন দেশটির রাষ্ট্রপতি সার্জেও মাত্তারেল্লা। তিনি বলেন, করোনা ও অভিবাসী বিষয়ে ইতালিয়ান সাংবাদিকেরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কয়েকবছর যাবত ভূমধ্যসাগর ও অন্যান্য দেশ পাড়ি দিয়ে আসা অভিবাসীদের নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ইতিবাচক ও নেতিবাচক সংবাদ প্রচার করে আসছে স্থানীয় সাংবাদিকেরা। যা সত্যিই দেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও চলমান করোনা ভাইরাসের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডাক্তার ও সেবিকাদের পাশাপাশি সাংবাদিকেরাও জনগনের কাছে করোনার নিয়মিত সংবাদ প্রচার করে আসছে। আর এ কোভিড ১৯ নিয়ে সাংবাদিকদের সতর্কতামূলক প্রতিবেদন করোনা মোকাবেলায় অনেকটা সহায়তা করেছে।

ইউরোপের অত্যন্ত শক্তিশালী দেশ ইতালি মহামারী করোনায় অনেকটাই বিপর্যস্ত ছিল । যেখানে প্রতিদিন গড়ে সাত থেকে আটহাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হত সেখানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা সাংবাদিকদের ভূমিকা সত্যিই প্রশংসনীয়।

সাইফুল ইসলাম মুন্সী
গণমাধ্যমকর্মী