আইনি বাধা, স্বাস্থ্যবিধি- তাহলে উপায়?

অজয় দাশগুপ্ত

বাজেট রিপোর্টিং

আশির দশকে পত্রিকায় প্রাক-বাজেট এক লেখার শিরোনাম দিয়েছিলাম ‘বাজেট, আপনি কি দুর্ভোগ?’ নব্বইয়ের দশকে একট লেখার শিরোনাম দিয়েছি ‘অর্থমন্ত্রীরা এখন অনেক বুদ্ধিমান’। একটা সময় ছিল যখন অর্থমন্ত্রী বাজেটের দিন সব ধরনের পণ্য ও সেবার শুল্ক বাড়াতেন বা কমানোর ঘোষণা দিতেন। বাড়তো  বেশি, কমত কম। টেলিফোন চার্জ, বিদ্যুৎ-গ্যাস, খাম-পোস্টকার্ডে, বই-খাতা, তেল-চাল-ডাল-লবণ, জ্বালানি সব কিছু চলে আসত বাজেট ভাষণে। তখন বাজেটের আগে বেশিরভাগ পণ্যের এক দফা বাড়ত, ঘোষণার পর আরেক দফা বাড়ত। বাজেট পেশের পরের দিন সংবাদপত্রে বড় শিরোনাম থাকে কোন কোন পণ্যের  দাম বাড়বে, কোন পণ্যেরা দাম কমবে।

বাজেটের কারণে বিস্তর জনদুর্ভোগ হবে, এটা ছিল নিশ্চিত। এরপর অর্থমন্ত্রীরা বুদ্ধিমান হওয়া শুরু করলেন। আমলাদের সঙ্গে আলোচনায় বুদ্ধি বের হলো। অনেক ধরনের পণ্যের দাম-চার্জ একসঙ্গে বাড়লে মানুষের ক্ষোভ-রোষ হওয়া স্বাভাবিক। তাই রয়ে সয়ে চলা ভাল। জানুয়ারি মাসে গ্যাসের দাম বাড়বে, ফেব্রুযারিতে চিনি, মার্চে বিদ্যুত, এপ্রিলে গুড়ো দুধ, মে-তে বাসের ভাড়া, জুনে ট্রেনের ভাড়া, জুলাইয়ে টেলিভিশন-ফ্রিজ, আগস্টে জ্বালানি তেল- এভাবে চললে একবারে চাপ বাড়ে না।

বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল শেগুলোর অর্থমন্ত্রীদের জন্য আরও একটি সুবিধা সৃষ্টি হয় বিশ্বব্যাপী আমদানি শুল্ক কমে যাওয়ায়। উন্নত দেশগুলো বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা গঠনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়- সব দেশকে আমদানি শুল্ক বিপুলভাবে কমিয়ে দিতে হবে। এর আওতায় ইল্কেট্রনিক্স পণ্য-ফ্রিজ, টিভি থেকে শত রকমের যন্ত্র আসে। খাদ্য-ওষুধ থেকে বহু ধরনের ভোগ্য পণ্য আসে। গাড়ি আসে। শিল্পের মেসিন ও কাঁচামাল আসে। এ সব পণ্যের বেশিরভাগ উৎপাদন করে ধনবান দেশগুলো। সাবেক উপনিবেশ গরীব দেশগুলোতে মধ্যবিত্ত বাড়ছে। পয়সাওয়ালা লোক বাড়ছে। ভোগ্য পণ্যের বাজার তৈরি হচ্ছে। পণ্যের দাম কমালে তারা বেশি বেশি করে কিনবে। আর দাম কমাতে হলে গুরুত্বর্পূণ হচ্ছে আমদানি শুল্ক কমানো।

আরও একটি কাজ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বা ডব্লউিটিএ-এর মাধ্যমে করা হয়-আমদানি করা পণ্য কোন দেশ থেকে কী পরিমাণ আসবে, সে বিষয়ে যে সব বিধিনিষেধ রয়েছে, তা উঠে যায়। বাংলাদেশে এ কাজটি হয়েছিল বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে। সাইফুর রহমান তখন অর্থমন্ত্রী। তার দল বিএনপি ঘোরতর ভারতবিদ্বেষী। কিন্তু তিনি আমদানি বাণিজ্য বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তার সবচেয়ে বেশি সুফল ভোগ করে ভারত। হু-হু করে ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ করে। পেঁয়াজ-ডাল থেকে শুরু করে পোশাক শিল্পের কাপড়, শিল্পের মেসিন ও যন্ত্রাংশ এবং বহু ধরনের কাঁচামাল। ইলেকট্রনিক্স শিল্পের বাজার খলে নেয় কোরিয়া, জাপান। গাড়িতে একচেটিয়া সুবিধা পায় জাপান। পরে ভারতও গাড়ি ব্যবসায় লাভ ঘরে নিতে থাকে। টাটাসহ অনেক কোম্পানি আমারে বাজারে আসে। অন্যদিকে, সবার অলক্ষ্যে তর তর করে এগিয়ে যায় চীন। বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি পণ্য আমদানি করে চীন থেকে (মোট আমদানির প্রায় ৩০ শতাংশ আসে চীন থেকে), তারপর ভারতের স্থান।

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত সাধারণত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কথা বলেন না। যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূতরা গণতন্ত্র, তথ্য অধিকারসহ কত বিষয়ে কথা বলেন। বাণিজ্য নিয়েও কথা বলেন। ভারতের হাইকমিশনারকেও মাঝমধ্যে মুখর হতে খো যায়। কিন্তু চীন মুখে কুলুপ এটে থাকে। কিন্তু যেই না করোনায় ধরা খেল, শঙ্কা দেখা দিল- চীন থেকে আমদানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পোশাকের কাপড় আমদানি বাড়তে পারে ভারত থেকে। দ্রুত সক্রিয় হলেন চীনের রাষ্ট্রদূত। প্রকাশ্যেই মুখ খোলেন- এমন আত্মঘাতী ফাদে যেন বাংলাদেশ পা না বাড়ায়। ভারত থেকে যেন কাপড় আমদানি না বাড়ায়।

শিল্প-বানিজ্যের সাংবাদিকদের জন্য বিশেষভাবে ব্যস্ততার মৌসুম অবশ্যই বাজেটের সময়টা। তবে আগেই বেলছি অর্থমন্ত্রীরা বুদ্ধিমান হয়ে ওঠার কারণে সারা বছরই সাংবাদিকদের নানা খাতের প্রতি নজর রাখতে হয়। কোন ফাঁকফোকড় দিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তার প্রতিক্রিয়া কী হবে- সে সব জানতে হয় সাংবাদিকদের। অন্যদিকে, আমলাদের চেষ্টা থাকে- যতটা পারা যায় ‘অপ্রিয়’ সিদ্ধান্ত গোপন রাখার।

করোনারকালে বাজেটের সময় আমলারা বাড়তি সুবিধা পেয়ে গেলেন- জাতীয় সংসদ ভবনে সীমিত সংখ্যক সাংবাদিক প্রবেশ করতে পারবে। কথায় বলে ‘একে তো নাচুনি বুড়ি তার ওপর ঢোলের বাড়ি।’ আমলারা এমনিতেই তথ্য দিতে চান না, তারপর গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার অতি সীমিত। সেই যে কবে করোনার চিকিৎসক-নার্সদের জন্য দুই নম্বরী মাস্ক সরবরাহ করা হলো- তার তদন্ত কমিটি হলো। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বললেন, রিপোর্ট হয়ত তার অফিসে জমা হয়েছে। অফিস খুললে দেখব। অফিস খুলেছে। কিন্তু তিনি দেখেছেন কী? কী পেলেন প্রতিবেদনে? সাংবাদিকরা তো কাছেই যেতে পারেন না। জানবেন কী করে? করোনাকালে মুভমেন্ট একেবারেই সীমিত। আইনি বাধা আছে, স্বাস্থ্যবিধি আছে। তাহলে উপায়?

২০২০-২১ সালের বাজেটে অনেক খাতে পরিবর্তন আসবে। বিজনেস বিটের সাংবাদিকরা যদি আগের বছরের ছক নিয়ে পড়ে থাকি, সমস্যায় পড়ব। আবার নতুন ছকেও আমলাদের তরফে থাকবে নানা ধরনের ফাঁকফোকড়। যেমন স্বাস্থ্য খাতের কথা ধরা যাক। স্বাস্থ্য বাজেট যে বাড়বে, এটা নিশ্চিত।

করোনার টিকা বা প্রতিষেধক যদি বাজারে আসে এবং বাংলাদেশে যদি লাইসেন্স প্রদানের প্রশ্ন আসে- কোন কোন কোম্পানি বা ব্র্যান্ড পাবে? ওষুধ উৎপাদনের জন্য কারা অগ্রাধিকার পাবে? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যদি কাজ দেয়, সরকার তা কাদের দেবে?

স্বাস্থ্যবাজেট যদি বর্তমানের তুলনায় এমনকি তিন-চার গুণ বাড়ানো হয়, আর ২০ লাখ টাকার ভেন্টিলেশন-আইসিইউ মেসিন ৮০ লাখ টাকায় কেনা হয়, ফের যদি পর্দা বা বালিশ কান্ড ঘটে, তাহলে কী লাভ বাজেট বাড়িয়ে? ভারতে করোনা পরীক্ষার প্রতিটি ২৫০ টাকা দামের কিট সরকার ব্যক্তি মালিকের কাছ থেকে কিনেছে ৬০০ টাকা বা তার বেশি দামে। একটা দু’টা নয়, লাখ লাখ পিস। আদালতের নজরদারি কারণে এটা ধরা পড়েছে। বাংলাদেশে এটা হয়েছে কিনা বা ভবিষ্যতে হবে কী-না, সেটা আমলারা ফাঁস করবে না। সাংবাদিকরা চ্যালেঞ্জ নেবেন কি?

গত তিন দশক ধরে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বেসরকারি খাতের রমরমা অবস্থা। কয়েকটি ক্লিনিক দাবি করে, তারা বিশ্বমানের চিকিৎসা দিচ্ছে বাংলাদেশে। কিন্তু অনেক মানুষ যখন একটি রোগে আক্রান্ত কতই না অসহায় তারা। আর গরীবরা যাবে কোথায়? মধ্যবিত্ত কোথায় যাবে? স্বাস্থ্য বাজেট বাড়লেই কি তারা সুফল পাবে? কেবল বিজনেস বিট নয়, স্বাস্থ্য বিটের সাংবাদিকদের কাজের ধরণও বদলাবে।

ধরা যাক, ভেন্টিলেশন সুবিধা কম দামে আমদানির জন্য ট্যাক্স হার শূন্যে রাখা হলো, এ জন্য যেসব উপকরণ লাগবে তারও ট্যাক্স শূন্য থাকল। এমনকি সাবসিডিও দেওয়া হলো। কিন্তু বেসরকারি হাসপাতালে এ সুবিধা ব্যবহারের জন্য গলা কাটা রেট আগের মতোই রাখা হলো। তাহলে স্বাস্থ্য বাজেটে বরাদ্দ বাড়িয়ে লাভ কী মিলবে? কিংবা মালিকরা বলল, আমরা রোগীর কাছ থেকে যে টাকা কম নেব, সেটা সরকারকে সাবসিডি দিতে হবে।

কৃষিতেও বরাদ্দ বাড়বে, ধরে নিতে পারি। বোরো ধান কাটার মৌসুমে যন্ত্র  খুব সহায়ক হয়েছে। ২০ লাখ টাকার মেসিনের জন্য সরকার ভর্তুকি দিয়েছে ১০ লাখ টাকা। এ যন্ত্র কিন্তু গরীব বা মধ্যবিত্ত কৃষকরা কেনেনি। ভাল লাভ পেয়েছে ধনবান একটি গোষ্ঠী। আর আসল লাভ ঘরে তুলেছে এ যন্ত্রের আমদানিকারকরা।

ধান-চালের সংগ্রহ মূল্যের দিকেও আমরা তাকাতে পারি। সরকার এবারে ৪০ কেজি ধান কিনবে ১০৪০ টাকা দরে। আর ৪০ কেজি চাল কিনবে ১৪৪০ টাকা দরে। এবারে করোনাকালে সরকার সংগ্রহের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে। কৃষকরা যদি সরকার নির্ধারিত দাম পেত তাহলে লাখ লাখ কৃষক লাভবান হতো। তারা আর রিলিফের লাইনে দাঁড়াতো না, ১০ টাকা কেজি দরে চাল পেতেও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করত না। বাস্তবে কি এটা ঘটেছে? সাংবাকিদের এটাই অনুসন্ধানের বিষয়।

প্রতি বছর দেখা যায়, সরকার সময়মতো ধান কেনে না। নানা অজুহাত দেখায়। ধান ভেজা, আদ্রতা বেশি। চিটা আছে। নানা জাতের ধান। কত অজুহাত। তার চেয়ে সুবিধা, মিলারের কাছ থেকে কেনা। মিলাররা ৭০০-৮০০ টাকায় কৃষকদের কাছ থেকে ৪০ কেজি ধান কেনে। কিন্তু বিক্রি করে ১০৪০ টাকা দাম ধরে। সরকার এ ক্ষেত্রে যে কাজটি করতে পারে- তারা কৃষকরে কাছ থেকে ২৬ টাকা কেজি দরে ধান কিনে সেটা ভাঙিয়ে নিতে পারে মিলাররে কাছ থেকে। মিলাররা পাবে ধান ভাঙানোর মজুরি।

কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, সরকার ধানের চেয়ে চাল কেনে বেশি এবং এ চালের ৮০ শতাংশ জোগায় মিলাররা। এরা বেশ ধনী এবং তাদের পেছনে থাকে খাদ্য ও কৃষি বিভাগ, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল। এ চক্র কৃষিবান্ধব মতিয়া চৌধুরী দায়িত্বে থাকার সময় ভাঙতে পারেননি। এখন কি কেউ পারবেন?

আমাদের বছর বছর বাজেটের ফোকাস ছিল জিডিপি বা মোট দেশজ উৎপাদন কতটা বাড়ল, রাজস্ব আয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারল কী-না, আমদানি-রফতানিতে ভারসাম্য থাকল কী-না, বৈদেশিক সাহায্য কতটা এলো- এ সব। আগামী বাজেটের সময় এসব বিষয়ে সূচক হবে নেতিবাচক। এ নিয়ে সরকারের সমালোচনার সুযোগ কম থাকবে। সরকার চরমভাবে ব্যর্থ- এটাও এবারে জোর দিয়ে বলা যাবে না। দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়বে, হারও বাড়বে।          

বাজেট আলোচনায় এসব ফোকাসে থাকলে সেটা তেমন আকর্ষণ তৈরি করতে পারবে না। কোন কোন পণ্যের দাম বাড়বে বা কমবে, তেমন নজরকাড়া খবরও মিলবে বলে মনে হয় না। সঙ্গত কারণেই সাংবাদিকদের বাজেটের ফোকাস পাল্টাতে হবে। কিন্তু তথ্য মিলবে কম। সরকার বলছে- টেলিভিশন থেকে তথ্য নিতে। তথ্য যদি গোপন করা হয়? যদি অপর্যাপ্ত তথ্য দেওয়া হয়? বিভ্রান্তির চোরাবালিতে যদি ফেলা হয়?

করোনার কারণে দারিদ্র সীমার নিচে বসবাসকারীর মানুষের সংখ্যা ৫ বা ৬ কোটিতে নেমে যেতে পারে, এমন শঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। বাজেটের প্রধান সুফল কি এটা পাবে, না-কি ধনবানরা পাবে? নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি কতটা মনোযোগ পাবে? যদি শিক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হয়, কীভাবে এ সুযোগ সৃষ্টি হবে? যদি প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ বাড়ে, তার প্রধান সুফল কি প্রযুক্তি ব্যবসায়ীরা পাবে? অনলাইন ক্লাস গুরুত্ব পেতে থাকলে মোবাইল সেটের আমদানিকারক, মোবাইল ফোন কোম্পানি না-কি, কোটি কোটি শিক্ষার্থী-কে বেশি সুফল পাবে?

এ ধরনের কত প্রশ্ন এখন সামনে। এটাও মনে রাখতে হবে, অর্থনীতির মূল্যায়নে উদ্যোক্তা ও অর্থনীতিবিদরা চলেন অনেক সময় বিপরীত পথে। উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সরকারের যতটা মেলে, অর্থনীতিবিদদের ততটা মেলে না। অর্থনীতিবিদরা কিছুটা বামে চলেন। অনেকে আবার কিছুটা রক্ষণশীল। অন্যদিকে, উদ্যোক্তারা ডানে চলেন। অনেক উদ্যোক্তারা নিয়মকানুনের ব্যাপারে ততটা উৎসাহী নন। গণমাধ্যম কর্মীদের সমস্যায় পড়তে হয়- কার কথা-যুক্তি প্রাধান্য দেবে। তদুপরি হিসেবে রাখতে হয়, গণমাধ্যমের মালিকরাও কিন্তু উদ্যোক্তা।

সিদ্ধান্ত তাই আপনার। মহাত্মা গান্ধীর কথা দিয়ে শেষ করি। এক ছাত্র সমাবেশে এক কিশোর প্রশ্ন করে- আপনি বলছেন অসহযোগ আন্দোলনে সামিল হতে। বাবা-মা বলছেন, স্কুল না ছাড়তে। ক্লাস করতে, পরীক্ষা দিতে। আমি কার কথা শুনব। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক উত্তরে বলেন- আমার কথার সঙ্গে যদি তোমার বাবা-মায়ের কথায় ভিন্ন থাকে, তোমার বাবা-মায়ের কথা  মেনে চলবে। আর তোমার বাবা-মায়ের কথার সঙ্গে যদি বিবেকের দ্বন্দ্ব হয় বিবেকের অনুশাসন মেনে চলবে।

 

অজয় দাশগুপ্ত
সিনিয়র সাংবাদিক