করোনাকালে উপকূলের গণমাধ্যমকর্মীদের ঝুঁকি

জুনাইদ আল হাবিব

সাতশ’ কিলোমিটার সমুদ্রতীরের তটরেখায় কাজ করছেন উপকূলের কয়েক হাজার সাংবাদিক। সংবাদ মাধ্যমের ডেস্কের নির্দেশনা মোতাবেক মফস্বলের অন্যান্য নিউজ কাভারেজ করলেও উপকূলের বেশিরভাগ সাংবাদিককে কাভার করতে হয় উপকূলের নিউজ। উপকূলের দ্বীপ-চর, পিছিয়ে পড়া জনপদে খবরের খোঁজে পা ফেলেন তারা। মূল ধারার সংবাদ মাধ্যমে তারা তুলে ধরেন প্রান্তজনের কথা।

দেশে যখন করোনা দুর্যোগ চলছে, তখন কি থেমে যাবে উপকূলের মানুষের খবর প্রচার? না, থেমে যায়নি। থামতেও দেননি উপকূলের গণমাধ্যমকর্মীরা। সম্প্রতি উপকূলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কথা স্মরণ করলেই আমরা বুঝতে পারি, গণমাধ্যমে উপকূলের গণমাধ্যমকর্মীরা এ করোনা সংকটেও কেমন ভূমিকা রেখেছেন। গণমাধ্যমজুড়ে সে সময়ে ভরপুর ছিল উপকূলের খবরে।

যদিও ঘূর্ণিঝড় এলে গণমাধ্যমের চোখ উপকূলে যায়, তবুও যে সময়ে ঘর থেকে বের হওয়া দায়, সে সময়ে জীবন ঝুঁকি নিয়ে সবাইকে উপকূলের খবর পৌঁছে দিয়েছেন উপকূলে কর্মরত এসব সাংবাদিকগণ।

ঘূর্ণিঝড়ে সংবাদ সংগ্রহের ঝুঁকিটা আজকের নয়। আবার বাসা হতে বের হলে করোনার ঝুঁকিতো থাকছেই। সে জায়গা থেকে উপকূলের সাংবাদিকরা যোদ্ধার পরিচয় দিয়েছেন। অন্যদিকে, কেবল যে ঘূর্ণিঝড়ে উপকূলের খবর সংগ্রহ করে এখানকার সংবাদকর্মীরা থেমে গেছেন, তাও নয়। টেলিভিশনের পর্দায় কিংবা খবরের পাতায় চোখ মেললে এখনো উপকূলের খবর দেখতে পাচ্ছি। এ সব প্রতিবেদন প্রতিনিয়ত গণমাধ্যমের ডেস্কে পাঠাচ্ছেন উপকূলের সাংবাদিকরাই।

ঢাকা থেকে স্পেশাল স্টোরির জন্য গণমাধ্যমের কর্তাব্যাক্তিরা চাইলে উপকূলে রিপোর্টার পাঠান। কিন্তু করোনাকালে স্বাভাবিক সময়ে বা অস্বাভাবিক সময়ে উপকূলের মানুষের বিপন্ন জীবনের বিভিন্ন দিক উঠে আসছে উপকূলের সাংবাদিকদের থেকেই। এ ছাড়াও দেখা যাচ্ছে, কোথায় কোথায় করোনাকালে মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সহায়তা মানুষের কাছে পৌঁছেছে কিনা, সে সব নিউজ কাভারেজ করে মানুষের পাশে থাকছেন উপকূলের সাংবাদিকগণ। এমনও দেখেছি, উপকূলের সাংবাদিকদের কেউ কেউ নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে মানুষের ঘরে খাবার পৌঁছে দিয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ হতদরিদ্র, কেউ গরীব অসহায়, রয়েছেন জেলে সম্প্রদায়ের লোকজনও।

তাহলে একটা বিষয় দাঁড়াচ্ছে, কেবল একজন সংবাদকর্মীই নয়, করোনায় একজন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে উপকূলের সাংবাদিকরা বাড়তি কষ্টও করছেন। যা জীবনের ঝুঁকি নিয়েও৷ উপকূলের বিভিন্ন স্থানের গণমাধ্যমকর্মীদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, অনেকের নেই ব্যক্তিগত সুরক্ষা পোশাক। তবে অনেক সামাজিক সংগঠনকে দেখা গেছে উপকূলের সাংবাদিকদের জন্য পিপিই উপহার দিয়ে এগিয়ে আসতে।

দেশে করোনা ঝুঁকির মধ্যেও এখন লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। যান চলাচলে ঘটছে দুর্ঘটনাও। প্রতিনিয়ত এমন বিভিন্ন খবরের জোগান পেতে বাসা থেকে বের না হওয়া নয়। বের হতেই হয়। না হলে অসম্পূর্ণ তথ্য নিয়ে নিউজ করা মোটেই সমীচীন হবে না। কেবল চাকরিটা বাঁচিয়ে রাখা নয়, একজন দায়িত্বশীল হিসেবে সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও খবরের পেছনে ছুটছেন উপকূলের এ গণমাধ্যমকর্মীরা। দেশে করোনা যুদ্ধে প্রথম সারির সৈনিক হিসেবে উপকূলের এ গণমাধ্যমকর্মীরাও কোন দিকে কম নয়। তবে, তাদের অনেক অপ্রাপ্তিও রয়েছে। সে দিকে খেয়াল রাখাও উচিত।

জুনাইদ আল হাবিব
গণমাধ্যমকর্মী